Monday, June 1, 2026

সব আগের মতই কিন্তু সে থাকবে না


সব আগের মতই কিন্তু সে থাকবে না

পড়ে থাকবে রুমটি

কিন্তু থাকবেনা হৃদপিন্ডের একটি অংশের পদচারণা।

সকালে, রাতে দড়জায় নাড়তে হবে না আর কড়াটি

ভাঙ্গাতে হবে না কারো রাতে দেরী করে ঘুমুতে যাওয়ার কাঁচা ঘুমটি।

পড়ে থাকবে রুমটির ভেতরে রাখা কম্পিউটার, প্রিন্টার, মিউজিক সিস্টেম

কিন্তু চালাবেনা কেউ সব আগের মত।

পড়ে থাকবে এক প্রকার যুদ্ধ করে কেনা  ড্রিল মেশিন, গ্রাইন্ডার মেশিন, স-কাটার মেশিন

বলবেনা এ জিনিষগুলো প্রয়োজনীয়

বলবেনা যখন তখন আমি ড্রিল করে দিচ্ছি, গ্রাইন্ড করে দিচ্ছি,  

বলবেনা চল কোন কিছু বানাই।

খাবার টেবিলে বসে বার বার মুরগীর বুক পিসটা আর খুজবেনা কেউ অনেকদিন হয়ত

খুজবেনা আর সলিড গোশতের পিস।

রাত দিন খেটে কেউ প্রিন্টিং এর সাপ্লাইজ গুলো নিশ্চিত করবেনা

যেতে হবে না কখনও পুরান ঢাকা, কখনও বাড্ডা, কখনও বা টঙ্গী।

বুঝতে হবে না তার মনের অভিমানী কথাগুলো

বুঝতে হবেনা তার না প্রকাশ করা কষ্টগুলো

বুঝতে  হবে না তার সারা জীবনের বাস্তব সত্য।

দেখতে হবেনা কারও বিপদে উপকার করার দৌড়ে যাওয়ার কোন দৃশ্য।

দেখতে হবে না কোন অভিভাবকের নি:লজ্জের মত পাশে বসতে না চাওয়ার পাগলামীর দৃশ্য।

দরজা খুলে কেউ তাকিয়ে থাকবেনা হাতের দিকে বলবে না কিছু এনেছ?

তবুও জীবন চলবে জীবনের গতিতে

উন্নত হতে চাই তবে বিসর্জন তো দিতেই হবে।

নিজ হাতে ব্যাগ গুছিয়ে পৌছে দিতে হবে আকাশপথের স্টেশনে

ঠায় দাড়িয়ে অবলোকন করতে হবে একটি স্বপ্নের বাস্তব রূপ এ পরিণত হওয়ার প্রত্যাশায়

বিসর্জন দিতে হবে মায়া, বুকে বুক স্পর্শ করার লোভটা।


ঠায় দাড়িয়ে থাকব দূরে উড়ে যাওয়া কোন উড়োজাহাজের উড়ন্ত কোন দৃশ্য দেখার

যেখানে থাকবে আমার হৃদয়ের একটি অংশ।




Thursday, November 3, 2016

সংসার ও বিসর্জন আর প্রাপ্তি

আমার আগের লেখায় ছিল ফিরে আসা সমাজের কাছে।

সমাজ আসলে নয় আমি বন্দি হলাম আমার সংসারের কাছে দায়িত্বের কাছে। আমার অভিভাবক, আমার সংসার সবার প্রত্যাশা তাদের মত করে সেখানে আমার কোন প্রত্যাশা থাকলেও তা প্রকাশ হয়নি কখন্ও। সংসার সারথীদের ইচ্ছা অনিচ্ছা পাওয়া না পাওয়া,  মনের মত হওয়া না হওয়া সব কিছুই যেন আমার দায়িত্ব। আমার ্সামনের পথ একটি গন্ডীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল।আমি অন্যের ইচ্ছার কাছে নিজের ইচ্ছে বিসর্জন দিলাম।আমার কষ্ট উপলব্ধি করার মত কাউকে খুজে পেলাম না। সবাই যেন তাদের প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তি হিসেব নিকেশে জড়িয়ে পড়ল। আর না পাওয়ার বেদনায় ভুগতে লাগল হীনমন্যতায়, আর তার সকল দায়ভার নিতে হল আমাকে, শুধুই বিসর্জন, ব্যালেন্স, সবকিছুই আমাকে হাপিয়ে তুলেছে।

মন সবারই থাকে,আর আমাদের অন্যের মনে কেমন প্রভাব পড়বে যে কোন কিছুই তাই ভাবতে হবে। অন্যের ব্যবহার আমাকে যেমন কাঁদায় হাসায় তেমনি অন্যকেও। আমি যদি কাউকে সম্মান না করি তাহলে আমারও সম্মান না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

সংসার দীর্ঘ সময় ধরে করছি কিন্ত প্রাপ্তির খাতায় কিছু কি যোগ হল? আমার নৌকার যাত্রী বেড়েছে বেড়েছে তাদের পাওয়া না পাওয়ার দোলাচল। সংসার নামের বিশাল জগতে আমি হয়ে পড়েছি অসহায়। 

Saturday, August 13, 2016

ভালবাসার কাটা ছেঁড়া - আমার ভাবনা আর বাস্তবতার সংমিশ্রণে কিছু কথা

ভালোবেসেছিলাম যখন কৈশর, তারুণ্যের টগবগে রক্ত শিরায় শিরায় বইছিল। ভালমন্দ বুঝবার সময় যখন হয়নি তখন। রঙ্গিন নেশায় সে ভালবাসার আকর্ষণে ভালবাসতে লাগলাম। প্রাণোচ্ছল আমি সব ভূলে হয়ে পড়লাম একলা চলার মাঝি শুধু বৈঠা হাতে এক পালতোলা নৌকা তবুও ভালবাসতে লাগলাম।ভালবাসাই যে নৌকার গতিবেগ বাড়িয়ে দিল।চারিদিকে থৈ থৈ পানি মাঝে আমার ভালবাসার নৌকা আর আমি।ভা..লো..বা..সার ঢউ খেলছিল মাঝ নদীতে বুঝতেই পারছিলাম না কি করে ফেলেছি এই ভালবাসার জন্য।তখন মনে হচ্ছিল মাঝ নদীতে সূর্যের চিকমিক আলো ঢউ খেলছিল, রাতে চাঁদে জোস্নার স্নিগ্ধ আলো কত যে সুন্দর মনে হচ্ছিল। পালতোলা নৌকা এগিয়ে চলল সময় েগড়িয়ে গেল আস্তে আস্তে চাঁদের স্নিগ্ধতায় ভালবাসা পরিণত হল  চূড়ান্ত পরিণয়ে।

ভোরের আলোতে মনে হল এখন পাড়ে ভেরাতে হেবে নৌকাটি। আমি আর আমার নৌকা সঙ্গি হল আমার। নদীর ঢউ ভেঙ্গে পাড়ি জমালাম ছোট্ট একটি কুড়েঘরে। নতুন ভাবনা নতুন স্বপ্ন আমায় বিভোর করে তুলল। এভা্বেই চলতে লাগলাম নিজের ভেতর অনেক প্রশ্ন নিয়ে।আমার নৌকা চলছিল সুন্দর ভাবে। অপরিপক্ক চিন্তা চেতনায় আমার ভালোবাসা এগিয়ে চলল। সময়ের পূর্বেই যে ঘটনা ঘটে যায় তা কখনই ফেরানো যায়না। মনের একাগ্রতায় ভালবাসার সুন্দর স্বপ্ন আর জেদ নিয়ে এগিয়ে চললাম। হার না মানা আমার গতি আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিল। আমার নৌকা আমার সাথেই আছে।কিন্ত প্রম্ন জাগে নৌকাটি কি কখনও আমার বেদনা নিজের মত করে অনুভব করেছে নাকি তাঁর নিজের বেদনাকে প্রাধান্য দিতে চাইছে?

যাই হোক আমি ভাবিনি কিছূই ভাবিনি একরাশ নীরবতা আর অভিমান নিয়ে আমার ভালবাসাকে শ্রদ্ধা, সম্মান আর স্নেহ করে এগিয়ে গিয়েছি যতটুকু আমার সম্ভব ছিল।আমি ভাবিনি আমি কোটিপতি হতে পারব্ কি না বা আমার বাড়ি গাড়ি হবে কি না। আমি এগিয়ে গিয়েছি। সময়ের সাথে সাথে আমার কুড়েঘর ছেড়ে যৌথ পরিবারে যুক্ত হতে হল বাস্তবতার প্রয়োজনে। যৌথ পরিবার মানে আমার পরিবারের সাথে আমার নৌকা মিলে থাকা। কয়েকটি মনের সাথে নৌকার মনের মিল অমিলের দাবা খেলা।

ভালবাসার মধুরতা রূপ নিচ্ছিল নতুন ভাবে। ভালোবাসার সুখের পরিণতিতে বাধ্য হয়ে সব নিয়ম ভেঙ্গে যখন একলা চলছিলাম সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যখন অনেকদিন পর ঐ সমাজের কাছে ফিরে আসলাম তখন স্বাভাবিকভাবেই আমার প্রত্যাশা আর পাওয়া আলাদা হবে তা বুঝে নিয়েছিলাম কিন্তু আমার নৌক বা ভালবাসা কি মেনে নিতে পেরেছিল?? প্রশ্ন উকি দেয়।
পরবর্ত লিখা - সংসার ও বিসর্জন আর প্রাপ্তি

Monday, May 2, 2016

কিছূ কথা

কিছূ বলতে চাই লিখতে চাই যা একান্তই আমার নিজের। অনেক কথা যা নিজের সাথেই বলে সময়কে বয়ে নিয়ে যেতে হয় সামনের দিকে।

জীবনের তেতাল্লিশ বছর পেরিয়ে সামনের দিকে এগিযে যাচ্ছি 2016 তে। জন্ম বিয়ে মৃত্যু এর মাঝে বহমান আমাদের জীবন। সুখ আর দুঃখ নিয়েই আমাদের জীবন সবারই জানা। আমরা কতজন আছি মন খুলে কিছু কষ্ট শেয়ার করি বা আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই। অনেক আনন্দ মনে উকি দিলেও চারপার্শ্বে র পরিবেশ আমাদের তা প্রকাশ করতে দেয় না।

জন্মের পর যখন কৈশর উকি দেয় তখন মন খুলে অনেক কিছুই করে থাকি। বাবা মা’র বারন সত্ত্বেও কিছু আনন্দ আমরা মন খুলে করি যা জীবনের মধ্য সময়ের পর মনে করে আনন্দ পাই। কৈশরের স্কুল জীবনের ফেলে আশা অতীত আমাদের আনন্দ দেয় আবার ফিরে পাবার আকাং্খা যাগায়। বার বার ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেখানে।

কৈশরে অনেকে প্রেমে পড়ার পটভূমি রচনা করে কারো প্রেম হয় স্থায়ী কারো হয় অস্থায়ী। কেউ প্রেম করে সময় কাটানোর জন্য কেউ ্ প্রেম করে এক রঙীন আপ্রাপ্ত স্বপ্ন লালন করে। এখানেই অনেকে হোচট খায় আবেগের এক মিশ্র এলবামের ছবিতে।